দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলের নতুন রুটের মানচিত্র নিয়ে ওমানের সঙ্গে সমঝোতায় পৌঁছেছে ইরান। কয়েক সপ্তাহের কারিগরি আলোচনার পর এ সমঝোতা হয়েছে বলে জানিয়েছেন ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই।
শনিবার দেফা প্রেসকে বাঘাই বলেন, কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ এই জলপথের দুই উপকূলীয় দেশ ইরান ও ওমান গত তিন মাস ধরে নিরাপদ নৌপথ প্রতিষ্ঠার বিষয়ে নিবিড় আলোচনা চালিয়ে আসছে। গত ১৮ জুন নিরাপদ জাহাজ চলাচলের রুট প্রতিষ্ঠায় সমঝোতা স্মারক সইয়ের পর এ আলোচনা শুরু হয়।
তিনি বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রের বাধা সত্ত্বেও গত তিন সপ্তাহে আলোচনায় ইতিবাচক অগ্রগতি হয়েছে এবং জাহাজ চলাচলের পথের মানচিত্র নিয়ে সমঝোতা হয়েছে।’
বাঘাই জানান, ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নেতৃত্বে প্রতিরক্ষা, নিরাপত্তা ও পরিবেশবিষয়ক কর্তৃপক্ষের অংশগ্রহণে সমন্বয়ের মাধ্যমে এই পরিকল্পনা তৈরি করা হয়েছে।
তবে দুই দেশের মধ্যে এখনও কিছু বিষয় নিয়ে আলোচনা চলছে। এর মধ্যে তেহরান ও মাসকাটের পক্ষ থেকে প্রকাশের জন্য একটি বিবৃতিও রয়েছে। প্রক্রিয়া চূড়ান্ত না হওয়া পর্যন্ত দুই দেশের মধ্যে আলোচনা ও যোগাযোগ অব্যাহত থাকবে বলে জানান তিনি।
ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র বলেন, হরমুজ প্রণালিতে জাহাজের নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করা এবং দুই দেশের সার্বভৌমত্ব অক্ষুণ্ন রাখার লক্ষ্যেই ইরান ও ওমানের মধ্যে এ স্বাধীন সমঝোতা হয়েছে।
তবে প্রণালিতে পূর্ণ নিরাপত্তা ফিরিয়ে আনা এবং স্বাভাবিক বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল পুনরায় শুরু করা যুক্তরাষ্ট্রের কথিত অবৈধ কর্মকাণ্ড, সামরিক হুমকি ও নৌ অবরোধ বন্ধের ওপর নির্ভর করছে বলে দাবি করেন বাঘাই। একই সঙ্গে গত দুই মাসে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিশ্রুতি ভঙ্গের জন্য ক্ষতিপূরণ দেওয়ারও দাবি জানান তিনি।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সমঝোতা স্মারকের আওতায় এসব আলোচনা শুরু হয়। ওই সমঝোতা অনুযায়ী, হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলের জন্য নতুন কাঠামো তৈরির দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল তেহরান ও মাসকাটকে।
ইরান ও ওমান জাহাজ চলাচলের পথ নিয়ে আলোচনা অব্যাহত রাখলেও তেহরান বারবার বলে আসছে, যুক্তরাষ্ট্র সমঝোতা স্মারকের আওতায় নিজেদের দায়িত্ব পালন না করা পর্যন্ত হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়ার কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে না।
/অ